গল্পটা লিডিয়া ফেয়ারচাইল্ড নামে এক ব্রিটিশ নারীর। লিডিয়ার গর্ভে যখন তার তৃতীয় সন্তান তখন তার স্বামী, জেমি টাউনসেন্ড-এর সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর কিছুদিন পরে লিডিয়া তার প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে তার এবং তার সন্তানদের ভরনপোষণ পাবার লক্ষ্যে আদালতে আপিল করেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে, আদালত লিডিয়ার সন্তানেরা যে তার প্রাক্তন স্বামীর-ই সন্তান, সেই প্রমাণ চায়। ডিএনএ নমুনায় সরাসরি প্রমাণিত হয় যে, টাউনসেন্ডই তাদের পিতা। কিন্তু গন্ডগোল বাঁধে অন্যখানে ! ডিএনএ টেস্টের ফলাফল অনুযায়ী লিডিয়া যাদেরকে নিজের সন্তান বলে দাবী করছিল, তারা তার সন্তান নয় বলে প্রমাণিত হয় !!!
লিডিয়ার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। মানসিক যন্ত্রনার পাশাপাশি যোগ হয় নানা আইনী জটিলতা। তার সন্তানদের তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় এবং তার বিপক্ষে জালিয়াতির কেস দেয়া হয়। এদিকে লিডিয়ার তৃতীয় সন্তান জন্ম নেবার সময় হয়ে আসে। বিচারক আদেশ দেয় লিডিয়ার তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় একজন পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবে। তার দায়িত্ব হবে, সন্তান জন্মের পরপরই ডিএনএ টেস্টের জন্য মা এবং সন্তানের রক্ত-নমুনা সংগ্রহ করা। ... ডিএনএ টেস্টের ফলাফল আসল দু-সপ্তাহ পর। সবাইকে অবাক করে দিয়ে টেস্টের রেজাল্ট বলল, তৃতীয় সন্তানটিও লিডিয়ার নয় !!! ঘটনা কি?
না, ডিএনএ টেস্টে কোন ভুল হয়নি।
না, কেউ জালিয়াতি করে রক্ত নমুনা বদলে দেয়নি।
ঘটনা কি বুঝতে হলে জেনেটিক্সের একটা তথ্য জানতে হবে। আমরা জানি, একজন মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষের ডিএনএ একই রকম। আপনার কিডনির কোষে যেরকম ডিএনএ, আপনার ত্বকের কোষেও সেই একই ডিএনএ। তবু ভিন্ন ভিন্ন কোষ ভিন্ন ভিন্ন রকম হয় এপিজেনেটিক্সের কারণে, সেটি এখানে ব্যাখ্যা করব না। যাইহোক, আমাদের সকল কোষ একইরকম ডিএনএ দিয়ে গঠিত একথাটি সত্য হলেও কিছু মানুষের জন্য এটি মিথ্যা। যেমনঃ লিডিয়া ফেয়ারচাইল্ড। এই ঘটনাকে বলে কাইমেরিজম (Chimerism)। এ ধরনের মানুষের (যেকোন প্রাণীর ক্ষেত্রেও হতে পারে) ভিন্ন ভিন্ন টিস্যু বা অঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ডিএনএ থাকতে পারে। লিডিয়ার ডিএনএ তার সন্তানদের সাথে মিলেনি, কারন লিডিয়ার জননকোষের ডিএনএ সিকোয়েন্স এবং তার রক্তনমুনার ডিএনএ সিকোয়েন্স এক ছিল না। পরবর্তিতে যখন তার জননকোষ নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করা হয় তখন সন্তানদের সাথে মিল পাওয়া যায়।
এব্যাপারে লিডিয়া অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবে তার আইনজীবী অ্যালান টিনডেল এবং ক্যারেন কীগান এর কাছে। কারন অ্যালান এই ধরনের সম্ভাবনার কথা আদালতে উপস্থাপন করেন এবং ক্যারেন কীগান হচ্ছেন আরেকজন কাইমেরিক যার উপর সংগঠিত গবেষণা থেকেই অ্যালান কাইমেরিজমের ধারণা পান।
-২০.০৯.২০১৪
লিডিয়ার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। মানসিক যন্ত্রনার পাশাপাশি যোগ হয় নানা আইনী জটিলতা। তার সন্তানদের তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় এবং তার বিপক্ষে জালিয়াতির কেস দেয়া হয়। এদিকে লিডিয়ার তৃতীয় সন্তান জন্ম নেবার সময় হয়ে আসে। বিচারক আদেশ দেয় লিডিয়ার তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় একজন পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবে। তার দায়িত্ব হবে, সন্তান জন্মের পরপরই ডিএনএ টেস্টের জন্য মা এবং সন্তানের রক্ত-নমুনা সংগ্রহ করা। ... ডিএনএ টেস্টের ফলাফল আসল দু-সপ্তাহ পর। সবাইকে অবাক করে দিয়ে টেস্টের রেজাল্ট বলল, তৃতীয় সন্তানটিও লিডিয়ার নয় !!! ঘটনা কি?
না, ডিএনএ টেস্টে কোন ভুল হয়নি।
না, কেউ জালিয়াতি করে রক্ত নমুনা বদলে দেয়নি।
ঘটনা কি বুঝতে হলে জেনেটিক্সের একটা তথ্য জানতে হবে। আমরা জানি, একজন মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষের ডিএনএ একই রকম। আপনার কিডনির কোষে যেরকম ডিএনএ, আপনার ত্বকের কোষেও সেই একই ডিএনএ। তবু ভিন্ন ভিন্ন কোষ ভিন্ন ভিন্ন রকম হয় এপিজেনেটিক্সের কারণে, সেটি এখানে ব্যাখ্যা করব না। যাইহোক, আমাদের সকল কোষ একইরকম ডিএনএ দিয়ে গঠিত একথাটি সত্য হলেও কিছু মানুষের জন্য এটি মিথ্যা। যেমনঃ লিডিয়া ফেয়ারচাইল্ড। এই ঘটনাকে বলে কাইমেরিজম (Chimerism)। এ ধরনের মানুষের (যেকোন প্রাণীর ক্ষেত্রেও হতে পারে) ভিন্ন ভিন্ন টিস্যু বা অঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ডিএনএ থাকতে পারে। লিডিয়ার ডিএনএ তার সন্তানদের সাথে মিলেনি, কারন লিডিয়ার জননকোষের ডিএনএ সিকোয়েন্স এবং তার রক্তনমুনার ডিএনএ সিকোয়েন্স এক ছিল না। পরবর্তিতে যখন তার জননকোষ নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করা হয় তখন সন্তানদের সাথে মিল পাওয়া যায়।
এব্যাপারে লিডিয়া অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবে তার আইনজীবী অ্যালান টিনডেল এবং ক্যারেন কীগান এর কাছে। কারন অ্যালান এই ধরনের সম্ভাবনার কথা আদালতে উপস্থাপন করেন এবং ক্যারেন কীগান হচ্ছেন আরেকজন কাইমেরিক যার উপর সংগঠিত গবেষণা থেকেই অ্যালান কাইমেরিজমের ধারণা পান।
-২০.০৯.২০১৪
No comments:
Post a Comment